সখীপুরে হাসপাতাল এখন ব্যবসায়ীদের দখলে


admin প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৩, ১০:৩৮ অপরাহ্ন /
সখীপুরে হাসপাতাল এখন ব্যবসায়ীদের দখলে

মিলন শাহরিয়ার জয়:

সখীপুর উপজেলার মধ্যে অন্যতম বৃহৎ বাজার বড়চওনা।বড়চওনা বাজারের উপর দিয়ে ঢাকা-সখীপুর-সাগরদিঘী ব্যস্ততম সড়কটি। যানবাহনের চাপ ক্রমশ বাড়ছেই সড়কে। সড়ক ঘেঁষেই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির অবস্থান। 

সপ্তাহে দুইদিন বড়চওনা হাট বসে। কিন্তু এখন আর হাটবারের অপেক্ষায় নেই মানুষ; প্রতিদিনই বাজারগুলো জমজমাট। 

প্রায়সময় দেখা যায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির চিকিৎসা সেবায় চরম দুর্ভোগ।উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির উত্তর-দক্ষিণ এমন কি প্রবেশ পথজুড়েই দোকানপাট গড়ে ওঠেছে। কাঁচাপণ্য, ফলসহ নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বেচাকেনা চলে দোকানগুলোতে। এতে ভয়ানকভাবে বিঘ্ন ঘটছে চিকিৎসা সেবায়। চিকিৎসা সেবা প্রার্থীরাও অনায়াসে হাসপাতালে ঢুকতে পারছে না। এ কারণে নাকি হাটবারের দিন কম আসেন রোগী। এ অবস্থা দেখে যে কারোর মন বিগড়ে গেলেও কেউ নাকি প্রতিবাদও করেন না। কারণ স্থানীয় প্রভাবশালীদের শেল্টারেই চলে ওই সব দোকানপাট। তারা দোকান থেকে খাজনাও নেন; কেউ কেউ দখল করছেন হাসপাতালের জমি। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এক একর (১০০ শতাংশ) জমির ওপর গড়ে ওঠেছে হাসপাতালটি। এর আশপাশে স্থানীয় বাজারের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা জমি দখল করে ফেলেছে। অর্ধেকেরও কম জমি এখন দখলে রয়েছে বলে হাসপাতালের এক দায়িত্বশীল কর্মকতা জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে এখন হাসপাতালটিকে গিলে খাচ্ছে বাজার। 

বড়চওনা বাজার বণিক বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি নূরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, জনস্বার্থে হাসপাতালটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ; ব্যবসায়ীদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে বারবার পদক্ষেপ নিয়েও ব্যর্থ হচ্ছেন। 

হাট ইজারাদার আবু সাঈদ শিকদারের ভাষ্য, তার কথা ব্যবসায়ীরা মানছে না; চিকিৎসা সেবা যাতে ব্যাহত না হয়; হাসপাতালের জমি দখলমুক্ত করতে তিনি উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। 

উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আবদুল মালেক সিদ্দিকী ও ফার্মাসিস্ট কামরুল ইসলাম জানান, চিকিৎসা সেবা দিতে বিঘ্ন ঘটে। এর নানা কারণ আপনারা সাংবাদিকরা তো সরেজমিন দেখেই গেলেন। 

এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রুহুল আমিন মুকুল বলেন, বড়চওনা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির সার্বিক বিষয়াদি তিনি অবগত আছেন। এর আগে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে দোকানপাটগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছিল। আবারও পূর্বের অবস্থায় ফিরে গেছে শুনেছি। খুব শিগগিরই উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে দোকানপাটগুলো তুলে দিয়ে নির্বিঘ্নে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আলম বলেন, ইতিপূর্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্র ঘেঁষে গড়ে ওঠা বিভিন্ন দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছিল। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা রোগীরা যাতে নির্বিঘ্নে সেবা নিতে পারেন সে বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দোকানপাটগুলো উচ্ছেদের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।