এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।


Ismail Hossain প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৭, ২০২৩, ৭:৪৮ অপরাহ্ন /
এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রাজধানীর মতিঝিলের আরামবাগে শারমিন (২১) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহতের স্বামী হৃদয় পুলিশকে জানিয়েছে শারমিন গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

তবে বাবা জাকির হোসেনের দাবি, তার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে মেরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

রবিবার (১৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ঘটনাটি ঘটে। পরে পুলিশ শারমিনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে রাত সোয়া (১৭ এপ্রিল) ১২টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

সত্যতা নিশ্চিত করেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া। তিনি বলেন, ‘মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে মতিঝিল থানা অবগত রয়েছে।’

মৃতার বাবা জানান, প্রায় তিন বছর আগে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। মতিঝিল আরামবাগ বালুর মাঠের পাশে স্বামীর সঙ্গে থাকতো। তাদের আয়ান নামে আড়াই বছরের এক ছেলে রয়েছে। 

তিনি বলেন, আমি রিকশা চালাই। মুগদা মান্ডা থাকি। দুই মেয়ে এক ছেলের মধ্যে সে দ্বিতীয়। গতকাল (শনিবার) আমি তাদের বাড়ি যাই। তাদের মার্কেটিংয়ের জন্য টাকা দিয়ে আসি। আজ বেলা ১১টার দিকে মেয়ে নাতিকে নিয়ে আমার বাসায় আসে। সে আসার কিছু সময় পর থেকে জামাই ফোনের পর ফোন শুরু করে যাওয়ার জন্য। পরে জোহর নামাজের পর চলে যায়। রাতে সংবাদ পাই মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছে। বিষয়টা মেনে নেওয়া যায় না। এর আগেও আমার মেয়েকে বেশ কয়েকবার নির্যাতন করেছে। মেয়ে আমার কাছে প্রথমে বলেনি। বলেছিল, সে পড়ে গেছে। পরে জানতে পারি তার স্বামী তাকে মারধর করেছে। সে সব কিছুই সহ্য করতো। এছাড়া বেশ কিছু দিন যাবৎ ৫০ হাজার টাকা দাবি করতো মেয়ের কাছে। আমি বলেছি, সে যদি বাড়িতে ঘর তোলে, সে সময় যে ভাবেই হোক টাকার ব্যবস্থা করে দেবো।

মৃতার বাবার অভিযোগ, তার মেয়ে যে বাসায় থাকতো, সেখানেই জামাইয়ের ফুফু-ফুফাতো ভাই-বোন ভাই থাকে। তারাও বিভিন্নভাবে তার মেয়েকে মানসিক নিযার্তন করতো।

মেয়ের মৃত্যুর বিচার দাবি করে তিনি বলেন, আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য শুধু তার স্বামী এক দায়ী নয়। এর সঙ্গে ফুফাতো ভাইরাও জড়িত।

জান যায়, হৃদয় মতিঝিলে একটি কসমেটিক কোম্পানিতে চাকরি করে। তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি। শারমিনের বাড়ি বরগুনায়।